ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন উনিশ শতকের বাংলার এক অনন্য মনীষী, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, লেখক ও মানবতাবাদী চিন্তাবিদ। তাঁর প্রকৃত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। অসাধারণ মেধা ও কঠোর অধ্যবসায়ের জন্য তিনি "বিদ্যাসাগর” উপাধিতে ভূষিত হন। সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনেন এবং বাংলা ভাষাকে সহজ, প্রাঞ্জল ও আধুনিক রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বাংলা গদ্যের বিকাশে বিদ্যাসাগরের অবদান ঐতিহাসিক। বর্ণপরিচয় গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি শিশুদের শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন, যা আজও বাংলা শিক্ষার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাঁর ভাষা ছিল যুক্তিবাদী, স্পষ্ট ও মানবিক - যা পরবর্তী বাংলা সাহিত্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
সমাজসংস্কারক হিসেবে বিদ্যাসাগরের সবচেয়ে স্মরণীয় অবদান হলো বিধবা বিবাহ আন্দোলন। তৎকালীন সমাজের প্রবল বাধা ও রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি ১৮৫৬ সালের বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা নেন। পাশাপাশি নারী শিক্ষার প্রসার, বহুবিবাহের বিরোধিতা এবং সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা তাঁকে এক অনন্য মানবতাবাদী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন নীতিবান, সাহসী ও সহমর্মী মানুষ। ব্যক্তিজীবনে সরলতা এবং সমাজজীবনে দৃঢ়তা - এই দুইয়ের সমন্বয়ই তাঁকে বাংলা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। শিক্ষা, সাহিত্য ও সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ আজও প্রাসঙ্গিক এবং অনুপ্রেরণার উৎস।