অনীক দত্ত আর নেই। খবরটা প্রথম পড়ে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। বাংলা সিনেমার একজন পরিচিত পরিচালক, যাঁর ছবিতে আমরা কখনও হাসতাম, কখনও ভাবতাম, তিনি এভাবে হঠাৎ চলে যাবেন— এটা মেনে নেওয়া সহজ নয়।
একজন সাধারণ বাঙালি দর্শক হিসেবে আমার কাছে অনীক দত্ত মানে ছিল অন্যরকম গল্প বলার ক্ষমতা। তাঁর ছবিতে ব্যঙ্গ ছিল, বুদ্ধিদীপ্ত রসবোধ ছিল, আবার সমাজকে দেখার একটা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল। তাই তাঁর মৃত্যুর খবর শুধু চলচ্চিত্র জগতের ক্ষতি নয়, অনেক দর্শকের কাছেও ব্যক্তিগত আঘাতের মতো।
তবে এই ঘটনাটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে— মানসিক স্বাস্থ্য।
আমরা প্রায়ই ভাবি, যাঁরা সফল, পরিচিত বা প্রতিষ্ঠিত, তাঁদের জীবনে হয়তো বড় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় অন্য কথা বলে।
একজন চলচ্চিত্র পরিচালকের জীবন যতটা গ্ল্যামারাস বলে মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। একটি ছবি তৈরি করতে বছরের পর বছর পরিশ্রম করতে হয়। অর্থের চিন্তা থাকে, দর্শকের প্রত্যাশা থাকে, সমালোচনার চাপ থাকে। একটি ছবি ব্যর্থ হলে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানসিক আঘাতও কম নয়।
তার উপর থাকে ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক দায়িত্ব, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে অনেক সময় এমন একটা চাপ তৈরি হয়, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
আমাদের সমাজে এখনও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলাখুলি কথা বলার অভ্যাস খুব একটা তৈরি হয়নি। শরীর খারাপ হলে আমরা ডাক্তার দেখাই, কিন্তু মন খারাপ বা দীর্ঘদিনের হতাশাকে অনেক সময় গুরুত্ব দিই না।
"সব ঠিক হয়ে যাবে", "এত ভাবছ কেন?", "শক্ত হও"— এই কথাগুলো শুনতে ভালো লাগলেও অনেক ক্ষেত্রে এগুলো সমস্যার সমাধান নয়।
বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা মানসিক ক্লান্তি এমন কিছু বিষয়, যা একজন মানুষের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই মানসিক কষ্টকে দুর্বলতা বলে দেখা উচিত নয়।
আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, শিল্পী এবং সৃজনশীল মানুষদের জীবন অনেক সময় বাইরে থেকে যতটা ভরা মনে হয়, ভেতরে ততটাই নিঃসঙ্গ হতে পারে।
কারণ তাঁরা অনুভব করেন গভীরভাবে। আনন্দ, কষ্ট, ব্যর্থতা, সম্পর্ক— সবকিছুই হয়তো একটু বেশি তীব্রভাবে স্পর্শ করে তাঁদের। সেই সংবেদনশীলতাই তাঁদের ভালো শিল্পী বানায়, আবার কখনও কখনও সেই সংবেদনশীলতাই মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অবশ্যই সব শিল্পীর ক্ষেত্রে এমন নয়। কিন্তু ইতিহাসে আমরা বহু অভিনেতা, পরিচালক, লেখক ও সংগীতশিল্পীর জীবনে মানসিক সংগ্রামের উদাহরণ দেখেছি।
অনীক দত্তের চলে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত যা-ই বলুক, একটি বিষয় পরিষ্কার— মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের আরও সচেতন হওয়া দরকার।
আমাদের আশেপাশের কেউ যদি হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যায়, সবার থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে, অথবা দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভোগে, তাহলে তার পাশে দাঁড়ানো জরুরি। সব সমস্যার সমাধান আমাদের হাতে না থাকলেও, কারও কথা মন দিয়ে শোনা অনেক বড় সাহায্য হতে পারে।
For years, the default expectation after Class 12, especially for science students has been simple: clear JEE for engineering or clear NEET for medicine. If you didn't fit into those two boxes, it often felt like you were out of options. How to Choose the Right Path.
That narrative is completely outdated. Read More
What if the world's largest river wasn't on the ground?
When people think of the Amazon, they imagine a vast jungle filled with exotic wildlife, giant trees, and the mighty Amazon River. But scientists have discovered something even more astonishing hidden above the forest. A massive invisible rivers flowing through the sky. Read More
বৃক্ষছায়ায় জ্ঞানের আলোকবর্তিকা: প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষা দর্শনের গূঢ়তত্ত্ব Read More
A brief overview of the village where Batukeshwar Dutt was born, its historical significance and how to visit. Read More
অনেক বছর ধরে প্রচলিত একটি ধারণা মানুষ তার মস্তিষ্কের মাত্র ১০% ব্যবহার করে। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে, এটি সম্পূর্ণ ভুল। আমরা আসলে আমাদের মস্তিষ্কের প্রায় সব অংশই ব্যবহার করি, শুধু একসঙ্গে নয়। প্রতিটি অঞ্চল নির্দিষ্ট কাজের জন্য দায়ী, কোনো অংশ ভাষা বোঝে, কোনো অংশ পরিকল্পনা করে, আবার অন্য অংশ আবেগ বা চলাফেরার নিয়ন্ত্রণে থাকে। Read More